স্পোর্টস ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ শুক্রবার দিনগত রাত ভোর চারটায় আফ্রিকার দল কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়।
- আরও পড়ুন
- গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান ঘোষণা

- আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দাপট, তিক্ত শুরু পেরিয়ে সাফল্যের গল্প

- খামেনির দাফনে বিশ্বনেতাদের সমাগম, তেহরানে শুরু রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান

- বাকেরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও ফলজ চারা বিতরণ

- মান্দায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল-শিক্ষাবৃত্তি, নারীদের সেলাই মেশিন ও মৎস্য উপকরণ বিতরণ

- বাড়িতে রাখা দুটি বিলাসবহুল গাড়িতে আগুন, থানায় মামলা

তবে এই অধ্যায়ের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে যাত্রা শুরু করা আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচেই ১-০ গোলে হেরে যায় ক্যামেরুনের কাছে। ফ্রাঁসোয়া ওমান-বিয়িকের সেই স্মরণীয় হেড এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম চমকপ্রদ মুহূর্ত। যদিও সেই ধাক্কা কাটিয়ে কার্লোস বিলার্দোর দল শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেছিল।
নাইজেরিয়া—চেনা প্রতিপক্ষ
পরবর্তী তিন দশকের বেশি সময়ে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা খেলেছে মোট আটটি ম্যাচ, যার মধ্যে পাঁচবারই প্রতিপক্ষ ছিল নাইজেরিয়া। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত একাধিক বিশ্বকাপে দুই দল একই গ্রুপে ছিল।১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম সাক্ষাতে স্যামসন সিয়াসিয়ার গোলে পিছিয়ে পড়েও ক্লদিও ক্যানিজিয়ার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ এটিই ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেলেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে—যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম হতাশাজনক অধ্যায়।
মেসির উত্থান ও ধারাবাহিক সাফল্য
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল লিওনেল মেসির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দিয়েগো ম্যারাডোনার অধীনে প্রথমবার আফ্রিকান দলের বিপক্ষে শুরুর একাদশে খেলেন তিনি। গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ ব্রাজিল ও ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পায় আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচেই গোল করেন লিওনেল মেসি ও মার্কোস রোহো। ২০১৪ সালে ৩-২ এবং ২০১৮ সালে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা।
অন্য আফ্রিকান প্রতিপক্ষ
নাইজেরিয়া ছাড়া আর্জেন্টিনা মাত্র একবারই অন্য কোনো আফ্রিকান দলের মুখোমুখি হয়েছে। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারায় হোসে প্যাকারমানের দল। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন হার্নান ক্রেসপো ও হাভিয়ের সাভিওলা।
এবার কেপ ভার্দে—নতুন চ্যালেঞ্জ
এবার আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। কঠিন গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে নকআউটে উঠে এসে ইতোমধ্যেই চমক দেখিয়েছে দলটি। তিনটি ড্র করে পরের পর্বে ওঠা এই দলটি আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়।
পরিসংখ্যান বলছে যা
বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স বেশ শক্তিশালী। প্রথম ম্যাচে হারের পর থেকে তারা বেশিরভাগ ম্যাচেই জয় পেয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
এবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ধারণ করবে শেষ ষোলোয় ওঠার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টিকিট—যেখানে ইতিহাস, পরিসংখ্যান এবং বর্তমান ফর্ম—সবকিছুতেই এগিয়ে আর্জেন্টিনা।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119