“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

বাংলা একাডেমিতে ‘নক্ষত্রের আর্তচিৎকার’ কাব্যগ্রন্থের পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত

ঢাকা২৪নিউজ
সংস্কৃতি বিষয়ক নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হলো নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘নক্ষত্রের আর্তচিৎকার’। শুক্রবার (১৭ই জুলাই ২০২৬) দুপুর ৩টায় আয়োজিত এই পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও প্রচুর সাহিত্যপ্রেমী দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক প্রযুক্তি ও সাহিত্যচর্চার বর্তমান প্রেক্ষাপট

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট-এর সংস্কৃতি (কালচার) সম্পাদক হোসাইন সাজ্জাদ। তিনি কাব্যগ্রন্থটির গভীর বিষয়বস্তু এবং আধুনিক যুগে সাহিত্যচর্চার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোকপাত করেন।

হোসাইন সাজ্জাদ তাঁর বক্তব্যে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ের সাহিত্যবিমুখতার কথা তুলে ধরে বলেন,

“একটা সময় দেখতাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বা বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত কবিতা পাঠের আসর হতো। সেই আসরগুলো থেকে মানুষ কথার নান্দনিক ছন্দমালা ও প্রকাশভঙ্গি শিখত। কিন্তু আক্ষেপের বিষয়, এখন আর তেমন আয়োজন দেখা যায় না। সবার হাতে এখন স্মার্টফোন, মানুষ ব্যস্ত রিলস ও স্বল্পদৈর্ঘ্য বিনোদন নিয়ে।”

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

কবি হওয়া সাধনা ও অনুভূতির ফসল

কবিতা রচনার গভীরতা ও কবি হয়ে ওঠার কাঠিন্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন,

“কথাসাহিত্যিক বা লেখক হওয়া কিছুটা সহজ হলেও সত্যিকারের কবি হওয়া অত্যন্ত কঠিন। পুরো একটি উপন্যাসের মূল ভাব বা দীর্ঘ জীবনের গল্পকে মাত্র ৮-১০টি লাইনে রূপ দেওয়া সাধারণ বিষয় নয়; এর জন্য প্রয়োজন গভীর সাধনা ও আল্লাহপ্রদত্ত প্রজ্ঞা।”

তিনি কাব্যগ্রন্থটি সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন, কবিতা কেবল শব্দের অলংকার নয়—এটি মানুষের অন্তরের গভীর অনুভূতি ও সামাজিক বোধের জলন্ত প্রতিফলন। ‘নক্ষত্রের আর্তচিৎকার’ কাব্যগ্রন্থে সমকালীন বাস্তবতা ও মানুষের জীবনের যে ব্যাকুল আকুতি ফুটে উঠেছে, তা পাঠকদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি গ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘মমতাময়ি মা’-র বিশেষ প্রশংসা করেন এবং বইটির বহুল প্রচার ও সাফল্য কামনা করেন।

  • আরও পড়ুন

মোড়ক উন্মোচন ও গুণীজনদের আলোচনা

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিরাও ‘নক্ষত্রের আর্তচিৎকার’ কাব্যগ্রন্থটির নান্দনিক সাহিত্যমূল্য, শব্দচয়ন ও গঠনশৈলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমসাময়িক বাংলা কবিতায় এই কাব্যগ্রন্থটি এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। মনোজ্ঞ আলোচনা পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে কাব্যগ্রন্থটির পাঠ ও মোড়ক উন্মোচন করেন। পুরো আয়োজনটি সাহিত্যপ্রেমীদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *