মোঃ সামিরুল ইসলাম
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল জেলায় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকার বিলের পানিতে ভাসমান খাঁচায় হাঁস পালনে ঝুঁকছেন এলাকার তরুণরা। এসব মৌসুমি খামারিরা মাত্র ছয়-সাত মাস নিয়মিত ডিম বিক্রি করে বছরে আয় করছেন ২ থেকে ১০ লাখ টাকা। খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁস পালন করতে পারায় খরচ অত্যন্ত তুলনামূলক কম। অন্য খরচের তুলনায় লাভজনক হওয়ার কারণে স্থানীয়রা হাঁস পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। একই সাথে ডিম উৎপাদন বাড়ছে।
জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিল এলাকায় হাঁস পালন থেকে ডিম উৎপাদন করছেন, যার বাজারমূল্য ২২ কোটি টাকার বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় মোট ১৩ কোটি ৫০ লাখ হাঁসের ডিম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে কেবল হাঁসের ডিমের বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি টাকা। বর্তমানে জেলার বাজারগুলোতে প্রতি পিস হাঁসের ডিম ১৪ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। দীর্ঘদিন হাঁসের খাদ্য সরবরাহের জন্য এলাকাভিত্তিক হাঁসের জন্য পোল্ট্রি খাবার ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি ঢাকায় এসব হাঁস ও ডিম সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কৃষিপ্রধান জেলা নড়াইলের আয়তন ৯৬৭ বর্গকিলোমিটার। প্রায় আট লাখ মানুষের বসবাস এই জেলায়। স্থানীয়দের প্রধান জীবিকা কৃষি। তবে অনেকেই বেকারত্ব দূর করতে ও কৃষিকাজে অভাব-অনটন দূর করার ক্ষেত্রে হাঁস পালনে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এখানকার ৮২ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। বিসিক শিল্প নগরীবিহীন এ জেলায় ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তেমন কোনো কারখানা গড়ে ওঠেনি।
তবে বেশ কয়েক বছর ধরে নিজ উদ্যোগে তিন শতাধিক যুবক তরুণ বর্ষা মৌসুমে অস্থায়ী খামার করে হাঁস পালন করছেন। জেলার লোহাগড়া উপজেলার সরশুনা গ্রামের খামারি মো. তুহিন শেখ। পাঁচ বছর আগে তিনি ১৫০টি হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেন। ওই বছর তার লাভ হয় লক্ষাধিক টাকা। প্রতি বছর তার খামার বড় করছেন। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা চার শতাধিক। এ বছর তিনি অন্তত ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
একই এলাকার খামারি আলিম মোল্যার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, একসময় কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। কৃষিকাজে তেমন লাভ নেই। প্রতিবেশীর পরামর্শে তিন বছর আগে শুরু করেন বর্ষা মৌসুম হাঁসের খামার। প্রথম বছরে মাত্র ২০০ হাঁস দিয়ে খামার শুরু করেন। লাভ ভালো হওয়ায় প্রতি বছর খামারে হাঁসের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এ বছরও তিনি হাঁস পালন করছেন। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় সাড় তিনশ। প্রতিদিন এ খামার থেকে ৩০০ ডিম উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে অন্তত ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
জানা গেছে, জেলার লোহাগড়া, কালিয়া ও সদর উপজেলার ইচ্ছামতি, শোলপুর, কলোড়া, কুমড়ির বিল, পাটেশ্বরী, সরশুনাসহ ১৫-১৬টি বিলের আশেপাশের গ্রামের অসংখ্য কৃষক ও যুবক এভাবে অস্থায়ী খামার করে হাঁস পালন করছেন। কৃষকরা জানান, প্রতিদিন সকালে খোলা আকাশের নিচে দিগন্তজোড়া বিলের মধ্যে হাঁস ছেড়ে দেন তারা। সারা দিন বিলের পানিতে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় হাঁস। বিলে থাকা প্রাকৃতিক খাবার খায় আর বিল ভরা পানিতে মনের আনন্দে খেলা করে হাঁস।
- আরও পড়ুন
- বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬ এর জমকালো সমাপনী

- ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

- গলাচিপা প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি শংকর লাল দাশ, সম্পাদক সাকিব হাসান

- সিনেমায় যা ছিল কল্পনা, নেপালে কি সেটাই বাস্তব? ‘2012’-এর দৃশ্য নিয়ে তুমুল চর্চা

- নেপালের বন্যা-ভূমিধসের মধ্যে শুটিং, দেশে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস

- বাকেরগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি সভা

সারা দিন পানিতে ছোটাছুটি করে সন্ধ্যার আগে একসাথে আবার ঘরে ফেরে প্রতিটি খামারের হাঁস। কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি বিল এলাকার কৃষক আসলাম শেখ বলেন, ‘এলাকার প্রতিটি ঘরে হাঁস পালন করা হয়। মূলত ডিম উৎপাদনের জন্য এলাকার মানুষ হাঁস পালন করে। খামারের প্রায় ৯০ শতাংশ হাঁস প্রতিদিন ডিম দেয়। বছরের সাত-আট মাস এসব হাঁস ডিম পাড়ে।’সদর উপজেলার শোলপুর গ্রামের খামারি মো. জিহাদ বলেন, ‘প্রতিবেশী বড় ভাইদের দেখে পাঁচ বছর আগে ২০০ হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেছিলাম। প্রথম বছর থেকেই ভালো লাভ হচ্ছে। প্রতি বছর খামারে হাঁসের সংখ্যা বাড়িয়েছি।
বর্তমানে হাঁসের সংখ্যা ১ হাজার ২০০। আশা করছি, এ বছর ছয়-সাত লাখ টাকা লাভ হবে।’ একই গ্রামের খামারি হাসান আলী বলেন, ‘বিলের পানিতে হাঁস পালন করলে সেগুলো প্রাকৃতিক খাবার খায়। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয় ও লাভ বেশি হয়।’ আরেক খামারি রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘বিল অঞ্চলের প্রতিটি খামারে ২০০ থেকে দুই হাজারটি ক্যাম্বেল হাঁস রয়েছে। অস্থায়ী খামার ছাড়াও বিল এলাকার প্রতিটি বাড়িতে এ সময় হাঁস পালন করেন পরিবারের সদস্যরা।’ খামারি শাহীন বলেন, ‘বছরে একটানা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিম দেয় এ হাঁস।
প্রতিদিন সকালে খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন হাঁস মালিকরা। হাঁস পালন করে এলাকার খামারি ও হাঁস মালিকদের পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে।’ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। হাঁসের মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা ও ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়। বর্তমানে জেলায় ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৭টি হাঁস রয়েছে। প্রতি বছর এ জনপদে হাঁসের খামার বাড়ছে।’
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119