“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

“নড়াইলে ৪৯৫টি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য ৩২০”


মোহাম্মদ সামিরুল ইসলাম
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলে ৪৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২০টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এহেন বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯০টিতে, লোহাগড়া উপজেলার ১৬৪টির মধ্যে ১১২টিতে এবং কালিয়া উপজেলার ১৫৬টির মধ্যে ১১৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নথিপত্র সংরক্ষণ, সরকারি বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে পাঠানো, সভা-সমন্বয় ও অফিস ব্যবস্থাপনাসহ নানা কাজে সময় দিতে গিয়ে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে, সেখানে সংকট আরও তীব্র। সদর উপজেলার তুলারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃপা শিকদার জানান, তিনি ২০১৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন তিনি। প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, বছরের পর বছর এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেও বেতন ও পদমর্যাদাগত সুবিধা না পাওয়ায় হতাশা তৈরি হচ্ছে। শেখহাটি ইউনিয়নের ডিএসবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৭৪ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

  • আরও পড়ুন

প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা পারভীন বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় অনেক সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোনিয়া খানম বলেন, সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় দাপ্তরিক কাজে প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয়। শিক্ষক সংখ্যাও তুলনামূলক কম। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের বেশ কিছু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাদের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি জানান, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত এসব পদ পূরণ হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *