নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা ঈদের চার দিন পরেও থামেনি। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে এখনও ‘ঈদ বোনাস’ এর অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। ঈদের আগের দিন থেকেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া শুরু করেন চালকেরা। ঈদ শেষ হলেও সেই বাড়তি ভাড়া আদায় অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের বাজার স্টেশন থেকে বাজার ভদ্রঘাট এলাকায় সাধারণ সময়ে জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা হলেও বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। রাত গভীর হলে সেই ভাড়া বেড়ে ৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে জেলা শহর থেকে কড্ডার মোড় পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা এবং বর্তমানে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুইয়াগাতী এলাকা থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে আসা মো. রাজমান বলেন, “তিনজনের জন্য স্বাভাবিক ভাড়া হওয়ার কথা ছিল ১৮০ টাকা। কিন্তু দিতে হয়েছে ২৪০ টাকা। ঈদের সময় বেশি ভাড়া নেবেই—এমনটাই যেন নিয়ম হয়ে গেছে।” অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ যাচাই করতে যাত্রী সেজে বাজার ভদ্রঘাট এলাকা থেকে একটি সিএনজিতে ওঠেন এই প্রতিবেদক। এ সময় স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা হলেও চালক ৩০ টাকা আদায় করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক বলেন, “আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে। আগে সিরিয়ালে ২০ টাকা দিতে হতো, এখন ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া ঈদের আগে সমিতিকে জনপ্রতি ১২০ টাকা করে ঈদ বোনাসও দিতে হয়েছে।” এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধে বিআরটিএর একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না।”
সিরাজগঞ্জ বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, “কেউ অভিযোগ করলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।” তবে এ পর্যন্ত কতটি অভিযোগ পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।” অন্যদিকে, প্রতিদিন অভিযান পরিচালনার দাবি করলেও বাস্তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
বিষয়টি নিয়ে সিরাজগঞ্জের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক বলেন, “অনেক মানুষ অভিযোগ করেও ফল পান না বলে অভিযোগ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। আবার অনেকেই জানেন না বিআরটিএর কাছে কীভাবে অভিযোগ করতে হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।” যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ঈদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ভাড়া নৈরাজ্য এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119