“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

খামেনির দাফনে বিশ্বনেতাদের সমাগম, তেহরানে শুরু রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকেও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। একই দিনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়, যা পরবর্তীতে দীর্ঘ সংঘাতে রূপ নেয়।

  • আরও পড়ুন

রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতি

খামেনির শোকানুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন—

  • পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
  • তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান
  • আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান
  • জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি

পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ও জুনের সমঝোতা বাস্তবায়নে।

উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল

বিভিন্ন দেশ রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • বাংলাদেশ: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল
  • চীন: জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই
  • রাশিয়া: নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ
  • তুরস্ক: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ
  • ভারত: বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা; এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও বিরোধী নেতা মেহবুবা মুফতি
  • আফগানিস্তান: তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

দাফন অনুষ্ঠানের সময়সূচি

প্রথমে মার্চে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও চলমান সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী—

  • ৩ জুলাই: তেহরানে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু
  • ৪–৫ জুলাই: সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন (গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে)
  • ৬–৭ জুলাই: শোকযাত্রা কোম শহরের উদ্দেশে যাত্রা
  • ৮ জুলাই: মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হবে; নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা
  • ১০ জুলাই: ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে চূড়ান্ত দাফন

উল্লেখ্য, মাশহাদই ছিল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্মস্থান।

শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিন তার পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশে রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে শোকযাত্রা ও ধর্মীয় আচার পালিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *