“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

শতাধিক পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে শুটিং, কী ঘটেছিল দিয়া মির্জার সঙ্গে?

বিনোদন ডেস্ক

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার অভিনয়জীবনে রয়েছে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একটি গানের শুটিংয়ের ঘটনা আজও তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এমন এক পরিস্থিতিতে তাকে অভিনয় করতে হয়েছিল, যেখানে সেটে উপস্থিত ছিলেন শতাধিক পুরুষ এবং তার পরনে ছিল প্রায় অন্তর্বাসের মতো সংক্ষিপ্ত পোশাক। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

যে কারণে কঠিন ছিল সেই শুটিং

দিয়া মির্জা জানান, একজন নারী হিসেবে সেটি ছিল তার করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ বিপুলসংখ্যক পুরুষের সামনে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পোশাকে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে হয়েছিল তাকে।

অভিনেত্রীর কথায়, পরিস্থিতিটি প্রথমদিকে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। তবে শুটিং এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের চরিত্র এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেটির ওপর মনোযোগ দেন।

দিয়া বলেন, তখন সেটে কতজন মানুষ উপস্থিত রয়েছেন—শতাধিক, পাঁচশো কিংবা তারও বেশি—সেটি আর তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। চরিত্রের প্রয়োজনীয়তাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে মুক্ত করেছিল’

অস্বস্তিকর সেই অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত দিয়াকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর মতে, ওই শুটিং তাকে এমনভাবে নিজের সংকোচ ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল, যা তিনি আগে কখনো কল্পনাও করেননি।

তবে পুরো অভিজ্ঞতাটি নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার পেছনে শুটিং সেটের পরিবেশও বড় ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দিয়া।

অভিনেত্রী জানান, বৈভবী মার্চেন্টের সহযোগিতা ও নির্দেশনার কারণেই তিনি গানটির শুটিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পেরেছিলেন। পাশাপাশি সেটে উপস্থিত অন্যরাও তাকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

কোন সিনেমার শুটিংয়ে ঘটেছিল ঘটনাটি?

দিয়া মির্জার এই অভিজ্ঞতাটি ২০০৪ সালের সিনেমা ‘তুমসা নহি দেখা’-র শুটিংয়ের সময়ের। ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয় করা ওই সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহব্বত হ্যায়’ গানটির শুটিংয়েই তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অনেক বছর পর সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে দিয়া বোঝাতে চেয়েছেন, একজন অভিনয়শিল্পীর কাছে শুধু পোশাক বা সেটে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা নয়, বরং চরিত্রটির প্রয়োজনীয়তা এবং গল্পের বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • আরও পড়ুন

নিরাপদ পরিবেশের গুরুত্ব

দিয়ার বক্তব্যে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—কঠিন বা সংবেদনশীল কোনো দৃশ্যের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাপদ কর্মপরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অভিনেত্রীর মতে, সেটে কাজ করা প্রত্যেকের সহযোগিতা ও পেশাদার আচরণ তাকে স্বস্তি দিয়েছিল।

তার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, ক্যামেরার সামনে দৃশ্যটি যতটা সহজ মনে হয়, তার পেছনে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে অনেক বেশি মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হতে পারে। আর সেই জায়গায় পরিচালক, কোরিওগ্রাফার ও পুরো শুটিং ইউনিটের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই শুটিংয়ের কথা এখনও মনে আছে দিয়া মির্জার। তবে অস্বস্তিকর সেই অভিজ্ঞতাকে নেতিবাচক স্মৃতি হিসেবে না দেখে বরং নিজের আত্মবিশ্বাস তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখছেন এই অভিনেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *