“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, ঢামেকে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু কর্নার, চিকিৎসক-নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু; প্রয়োজন হলে দেশজুড়ে হবে আরও ফিল্ড হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও নতুন ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হতে শুরু করেছে। তাই পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো ধরনের কালক্ষেপণ করতে চাই না। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলাতেও একই ধরনের ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।”

উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু কর্নার

ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিতে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিশেষ ডেঙ্গু কর্নার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব কর্নারে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফার করার ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বিষয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

  • আরও পড়ুন

চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবে সোসাইটি অব মেডিসিন। একই সঙ্গে নার্সদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার থেকেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। ঢাকার বাইরে দেশের সাতটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে রোগী বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়।

পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদের উদ্যোগ

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার রিএজেন্ট, টেস্টিং কিট, ফ্লুইড স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণ ইতোমধ্যে মজুত রয়েছে। সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় আরও পর্যাপ্ত পরিমাণ সরঞ্জাম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মশক নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়

ডেঙ্গুর মূল উৎস এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রায় দুই মাস আগে থেকেই সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশার বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। আগামীকালও এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”

ডেঙ্গু অ্যাপ ও গবেষণায় গুরুত্ব

সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ করতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো রোগী শনাক্তকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হালিমুর রশীদ, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. এএইচএম মইনুল আহসান এবং সোসাইটি অব মেডিসিনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *