লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ২ বছর ১ মাস বয়সী শিশু মোঃ রোহানের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই মাস পর আদালতে দায়ের করা হত্যা মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে চর ফলকন ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মোঃ আব্বাসের শিশু পুত্র মোঃ রোহান পানিতে পড়ে মারা যায়। ঘটনার পর শিশুর পরিবার কমলনগর থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত মুচলেকা দিয়ে জানায় যে, এ বিষয়ে কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই এবং শিশুটি পানিতে পড়ে মারা গেছে।
তবে ঘটনার দুই মাস পর, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে শিশুর বাবা মোঃ আব্বাস সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী (কমলনগর) আদালতে একই এলাকার জান্নাত বেগম (৫০), মোঃ জামাল (৫৫), মোঃ নিহাদ (১১) ও মোঃ জিহাদ (১৮)-সহ চারজনের বিরুদ্ধে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ এনে একটি সি.আর মামলা (নং- সি.আর/২০২৬) দায়ের করেন।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। নিরপরাধ পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সামাজিক ও সামাজিকভাবে হয়রানির প্রতিবাদে স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী এক মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশুটির মৃত্যু সম্পূর্ণ একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ছিল। এটি পানিতে পড়ে মৃত্যু হলেও একটি মহল স্বার্থ হাসিলের জন্য দুই মাস পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করিয়েছে।
- আরও পড়ুন
- কৃতিত্বের স্বীকৃতি: নারায়ণগঞ্জে তারেক আল মেহেদীসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মাননা

- সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বাকেরগঞ্জে বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল

- নড়াইলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস এন্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যবসায়ী সমাবেশ ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

- নামাজ পড়াতে বেরিয়ে আর ফেরেননি হাফেজে কুরআন রোকনুজ্জামান, সন্ধান চায় পরিবার

- লিওনেল মেসির স্ত্রীর জীবন বদলে গেলো, সাবলীল ইংরেজিতে মুগ্ধ ভক্তরা

- নড়াইল জেলা জামায়তের নায়েবে আমীর বাদশা মিয়ার দাফন সম্পন্ন

ঘটনার বিষয়ে কমলনগরের সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “ঘটনার পরপরই শিশুর পরিবার থানায় এসে মুচলেকা দিয়ে গিয়েছিল যে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং এ নিয়ে কারও প্রতি তাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু দুই মাস পর তারা আদালতে মামলা দায়ের করেছে।”
মামলার প্রধান সাক্ষী রাশেদা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এজাহারের বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, “আমি এই ধরণের কোনো ঘটনার সাক্ষী নই এবং এমন কিছু দেখিনি। শিশুটি পানিতে পড়েই মারা গিয়েছিল।” মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাদী মোঃ আব্বাসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরবর্তীতে জানাবেন বলে এড়িয়ে যান এবং আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকাবাসী অবিলম্বে এই মিথ্যা ও সাজানো মামলা থেকে নিরপরাধ ব্যক্তিদের অব্যাহতি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119