অধ্যবসায়, মেধা ও পরিশ্রমে কুরআন হিফজ সম্পন্ন; শিক্ষক-অভিভাবকদের মুখে আনন্দের হাসি
স্টাফ রিপোর্টার
মাত্র ৯ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন মাজিদ সম্পূর্ণ হিফজ করার মহান সৌভাগ্য অর্জন করেছে শিশু শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ হোসেন আব্দুল্লাহ বিন জাকির । দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও একাগ্রতার মাধ্যমে সে পবিত্র কুরআনকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছে। তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
জামিয়া সৈয়দ আবরারুল করিম কেরাতুল কোরআল মাদ্রাসা থেকে আব্দুল্লাহ পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করে। সে বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকার গ্রাফিক্স ডিজাইনার মো. জাকির হোসেনের দ্বিতীয় সন্তান। তিন ভাই-বোনের মধ্যে আব্দুল্লাহ দ্বিতীয়।
আব্দুল্লাহর হিফজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে তার উস্তাদ হাফেজ মো. আবু তালহা বলেন, এ অর্জনের প্রকৃত কৃতিত্ব একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার। তিনিই তাঁর কালাম মুখস্থ করার জন্য আব্দুল্লাহকে কবুল করেছেন এবং তাকে এই মহান নিয়ামত দান করেছেন। শিক্ষকরা কেবল এর পেছনে সামান্য একটি উসিলা হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহর মধ্যে শুরু থেকেই কুরআন হিফজের প্রতি গভীর আগ্রহ, ধৈর্য, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় লক্ষ্য করেছি। তার এই একাগ্রতা সত্যিই প্রশংসনীয়। একজন শিক্ষকের জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে—যে তার ছাত্র পবিত্র কুরআনকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করার পথে এগিয়েছে।”
আব্দুল্লাহর অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাফেজ মো. আবু তালহা বলেন, সন্তানের কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আন্তরিকতা, দোয়া ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা তাদের এই নিয়ত ও প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং আব্দুল্লাহকে তাদের চোখের শীতলতা হিসেবে কবুল করুন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা শুধু আব্দুল্লাহকে হাফেজে কুরআন হিসেবে কবুল করবেন না; বরং তাকে কুরআনের হক আদায়কারী, কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমলকারী এবং কুরআনের আলোয় আলোকিত একজন নেককার, মুত্তাকি ও রব্বানী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।”
এদিকে ছেলের এই সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন আব্দুল্লাহর বাবা মো. জাকির হোসেন। তিনি ছেলের জন্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মো. জাকির হোসেন বলেন, “আল্লাহপাকের অশেষ রহমতে আমার সন্তান পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে—এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যারা আব্দুল্লাহর জন্য দোয়া করেছেন ও সহযোগিতা করেছেন, সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
- আরও পড়ুন
- ৯ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআনের হাফেজ মো. জুনায়েদ হোসেন আব্দুল্লাহ

- ২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনে ত্রিমুখী লড়াই, দৌড়ে বার্সেলোনাও

- সবুজ আবাসনেই কমবে ঢাকার জীবনযাত্রার ব্যয়

- ২২ অক্টোবরের ছুটির বদলে ১৭ অক্টোবর অফিস খোলা

- পর্দা নামল এশিয়ান গেমসের, চার বছর পর দোহায় আবার মিলনমেলা

- রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ১০

তিনি আরও বলেন, “আমার একমাত্র চাওয়া—আল্লাহ যেন আব্দুল্লাহকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করে হকের পথে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করেন। তাকে একজন হক্কানি আলেম হিসেবে গড়ে ওঠার পথ সহজ ও সুন্দর করে দেন। সে যেন কুরআন শুধু মুখস্থই না করে, বরং কুরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে।”
আব্দুল্লাহর জন্য দোয়া করে তার বাবা বলেন, “মহান আল্লাহ যেন আমার সন্তানের দুনিয়া ও আখিরাত সুন্দর করে দেন। তাকে দ্বীনের একজন নিবেদিত খাদেম হিসেবে কবুল করেন। তার মাধ্যমে যেন মানুষের কল্যাণ হয় এবং আমাদের জন্যও নাজাতের উসিলা তৈরি হয়। আল্লাহপাক আব্দুল্লাহর হিফজকে মজবুত করুন, কুরআনকে তার জীবনের পথপ্রদর্শক করুন এবং ইলম ও আমলে বরকত দান করুন। আমিন, সুম্মা আমিন।”
অল্প বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করা আব্দুল্লাহর এই সাফল্যকে তার পরিবার ও মাদ্রাসার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কুরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে আব্দুল্লাহ একজন আদর্শ, সৎ ও দ্বীনদার মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119